তাজা খবর:
Home / breaking / তিন জয়ে ইউরোকে বার্তা দিয়ে রাখল মানচিনির ইতালি
তিন জয়ে ইউরোকে বার্তা দিয়ে রাখল মানচিনির ইতালি

তিন জয়ে ইউরোকে বার্তা দিয়ে রাখল মানচিনির ইতালি

স্পোর্টস ডেস্ক:-টুর্নামেন্টের আগে আলোচনাতেই ছিল না ইতালি, এমনকি বাছাইয়ে টানা দশ জয়ের পরেও। সেই ইতালিই তুলে নিয়েছে মূল পর্বে টানা তৃতীয় জয়, গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের ম্যাচে ওয়েলশকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। তাতে কাঙ্ক্ষিত গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্ব তো মিলেছেই, কোচ রবার্তো মানচিনির ইতালি বার্তা দিয়ে রাখল আর সব শিরোপা প্রত্যাশীদেরও। ম্যাচের আগে দলের সবার নাম দরাজ কণ্ঠে পড়লেন এস্তাদিও অলিম্পিকোর ঘোষণাকারী। শেষজনের নাম পড়তেই গ্যালারিতে উপস্থিত ১৮ হাজারের কিছু বেশি দর্শক সোল্লাসে অভিবাদন জানালেন তাকে। ম্যাচের আগেরদিন গ্যাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের সাময়িকীতে কৌতুক করে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তুলনা দেওয়া হয়েছিল যাকে, সেই রবার্তো মানচিনির ছোঁয়াতেই তো বদলে গেছে ইতালি।

শেষ ২৯ ম্যাচে হার নেই। আগের দুই ম্যাচেই করেছে তিনটি করে গোল। এমন পরিসংখ্যান যদি থাকে কোনো দলের, সে দলকে কি আর ভয় না পেয়ে হয়? কিন্তু দলটা যখন ইতালি, তখন ভুরূ না কুঁচকেই যায়না। রক্ষণাত্মক খেলার জন্য যে এতদিন বিখ্যাত ছিল ইতালিয়ানরা! তবে মানচিনির ইতালি যেন অন্য ধাঁতে গড়া। রক্ষণ তো বটেই, আক্রমণেও এখন সমান পারদর্শী আজ্জুরিরা।

প্রথম দুই ম্যাচে যা টের পেয়েছিল তুরস্ক, আর সুইজারল্যান্ড; একটু আগে পেল ওয়েলস। ম্যাচের ফলাফলটা দেখলে আপনার হয়তো মনে হতে পারে কথাটা ভুল। কিন্তু আদতে তা নয় মোটেও।

কোচ মানচিনি ম্যাচের আগে পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিন আনলেনও। সুইজারল্যান্ড ম্যাচ থেকে এদিনের একাদশে ছিল আটটা পরিবর্তন। জিয়ানলুইজি ডনারুমা, লিওনার্দো বনুচ্চি আর জর্জিনিও ছাড়া বদলে গিয়েছিল বাকি সব মুখ। সেই বদলে যাওয়া দলটাই কি না ছড়ি ঘোরাল পুরো ম্যাচে। ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল আর প্রতিপক্ষ গোলমুখে ছয়টা শটের বিপরীতে একটা হজম, আধিপত্য নয়তো কী? বদলে যাওয়া দলটাই যখন এমন খেলে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দলের বিপক্ষে, মূল দল খেললে কী হতো ভাবুন!

শুরুটা হয়েছিল প্রথম বাঁশির পর থেকেই। এরপর ২৫ মিনিটে কম করে হলেও ইতালির চারটা আক্রমণ সামলেছে ওয়েলস রক্ষণ, ২৭ মিনিটে অ্যারন রামসের কল্যাণে ইতালীয় বিপদসীমায় প্রথম বলার মতো ত্রাসটা ছড়ায় ওয়েলস। প্রথমার্ধে সেটাই ছিল ওয়েলশম্যানদের সবেধন নীলমণি।

আর ইতালি বিরতির আগে আক্রমণ করেছে আরও তিনটে, যার একটাতে এসেছে সফলতা। ৩৩ মিনিটে মার্কো ভেরাত্তির দারুণ এক ফ্রি কিকে মাতেও পেসিনার চৌকস ছোঁয়া ইতালিকে এনে দেয় গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার রসদ।

এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ইতালি বিরতির পরেও আক্রমণের পণ থেকে পিছু হটেনি। গোলের দেখাও অবশ্য পায়নি, দ্বিতীয়ার্ধে ইথান আম্পাদুর লাল কার্ডের পরেও। তাতে কী! ১-০ ব্যবধানটাই যে দলের জন্য যথেষ্ট ছিল, তাতে টানা তিন জয়ও উঠে এসেছিল হেসে খেলেই। আর পুরো ম্যাচে, টুর্নামেন্টের শুরু থেকে করে আসা মুহুর্মুহু সব আক্রমণে মানচিনির শিষ্যরা শিরোপার পথে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বার্তাটাও দিয়ে রেখেছে ভালোভাবেই।

তৃতীয় দল হয়েও ইউরোর নক আউটে যাওয়ার সুযোগ থাকে বলে দিনের অন্য ম্যাচটাও ছিল ইতালি-ওয়েলস ম্যাচটার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সে ম্যাচে জেরদ্রান শাকিরির জোড়া গোলে তুরস্ককে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলর আশা ভালোভাবেই বাঁচিয়ে রেখেছে সুইজারল্যান্ড।

তুরস্কের টুর্নামেন্টটা শেষ হয়েছে রিক্ত হাতে। সুইজারল্যান্ড ওয়েলসের সমান চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও গোল ব্যবধানে তৃতীয় হয়ে আছে তালিকার তিনে। ইতালির কাছে হারা ওয়েলস আছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। আর মানচিনির দল যে নিজেদের নিয়ে গেছে অস্পৃশ্য উচ্চতায়, তা আর হয়তো না বলে দিলেও চলে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Close