তাজা খবর:
Home / breaking / শিশু থাকবে নানা-নানির কাছে, বাবা দেখা করতে পারবেন
শিশু থাকবে নানা-নানির কাছে, বাবা দেখা করতে পারবেন

শিশু থাকবে নানা-নানির কাছে, বাবা দেখা করতে পারবেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

নয় বছরের শিশু আবুজার আজহার (আয়াত) গুলশানে তার নানা-নানির কাছে থাকবে। বাবা ডা. এ এইচ এম আজহারুল ইসলাম সন্তানের সঙ্গে সুবিধা মতো সময়ে দেখা করতে পারবেন— এমন আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গতকাল মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।

আদালতে এদিন শিশু আবুজার বাবার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এন গোস্বামী এবং শিশুর নানা-নানির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নকিব সাইফুল ইসলাম। বুধবার (১২ জানুয়ারি) আইনজীবীরা আদালতের আদেশের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ডা. এ এইচ এম আজহারুল ইসলাম ও রাজধানী গুলশানের বাসিন্দা ডা. জারিয়া টি. আহমদের মধ্যে বিয়ে হয়। ২০১২ সালে এ দম্পতির ঘরে আবুজার আজহার (আয়াত) নামের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। ২০১৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর শিশুসন্তান মায়ের কাছেই ছিল। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়াতের মা ডা. জারিয়া টি. আহমদ দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর শিশু আবুজার আয়াত বাবার কাছে লালিত-পালিত হতে থাকে। ২০১৯ সালের আগস্টে মা জারিয়া টি. আহমদ এফিডেভিটের মাধ্যমে শিশুসন্তানের লালন-পালনের ভার বাবা আজহারুল ইসলামকে দিয়ে দেন। বাবা আজহারুল ইসলাম আবুজারকে নারায়ণগঞ্জের হিলম ইসলামিক স্কুলের ইংলিশ ভার্সনে ভর্তি করে দেন। শিশুটি এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

বাবার কাছে থাকাকালীন নানা-নানি মাঝেমধ্যে নাতি আবুজারকে ঢাকার গুলশানের বাসায় নিয়ে আসতেন। এভাবেই চলছিল। চলতি বছরের (২০২২ সাল) জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শিশু আবুজার আয়াতকে জিম্মায় চেয়ে নানা ডা. জহির উদ্দিন আহমদ ও নানি সোনিয়া টি. আহমদ হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত শিশু আবুজার আজহার নানা-নানির কাছে থাকবেন বলে আদেশ দেন।

শিশুটির নানা-নানির আইনজীবী নকিব সাইফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আদালত আদেশে বলেছেন, শিশু আবুজার আয়াত নানা-নানির কাছে থাকবেন। তবে বাবা সুবিধা মতো সময়ে তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।’

শিশুর বাবার পক্ষের আইনজীবী এস এন গোস্বামী বলেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি উচ্চ আদালত। ইসলামী আইন অনুযায়ী মায়ের অনুমতি নিয়ে বাবা ও দাদা-দাদির হেফাজতে শিশুটি লালিত-পালিত হচ্ছিল। এ অবস্থায় শিশুর দাবিদার নানা-নানি হতে পারেন না। উচ্চ আদালত হয়ত শিশুটির কল্যাণে এমন আদেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

শিশুটির বাবা ডা. এ এইচ এম আজহারুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আপিল করার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close