তাজা খবর:
Home / আমাদের ধর্ম / নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের হজের বিধান
নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের হজের বিধান

নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের হজের বিধান

শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী:

ইসলামি বিধানে নারী ও শিশুদের ইবাদতের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি ব্যর্থ করি না কোনো আমলকারীর আমলের বিনিময়, হোক সে পুরুষ বা নারী।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৫)

নারীদের হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় মসজিদুল হারাম শরিফে প্রবেশ করা ও তাওয়াফ করা বিধেয় নয় এবং নামাজ পড়তে বা কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করতেও পারবেন না এবং উচ্চ স্বরে তালবিয়া পড়বেন না। কিন্তু ইহরাম বাঁধা ও অন্যান্য দোয়া পড়া যায়। হায়েজ ও নিফাসের সময় তাওয়াফে কুদুম না করতে পারলে তা মাফ হবে, কিন্তু হজের পর একটা ওমরাহ করতে হবে। হায়েজ ও নিফাসের সময় অকুফে আরাফাত (আরাফাতে অবস্থান) ও অকুফে মুজদালিফা (মুজদালিফায় রাতযাপন) করতে পারবেন, জামারাতে রমিয়ে জিমার বা শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবেন। কিন্তু তাওয়াফে জিয়ারত বা ফরজ তাওয়াফ সুস্থ হওয়ার পর করবেন। বিদায়ী তাওয়াফ হায়েজ ও নিফাসের ওজরে (অসুবিধায়) না করতে পারলে এবং সময় না পেলে এর জন্য কাফফারা দিতে হবে না, দূর থেকে বিদায় নেওয়া যাবে। উল্লেখ্য, কোনো নারী ইচ্ছা করলে হজের কার্যাবলি সম্পাদনের সুবিধার্থে হজ চলাকালে ওষুধ বা ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িকভাবে মাসিক বন্ধ রাখতে পারেন, যদি এতে শারীরিক কোনো সমস্যা না হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

বাংলাদেশের পরিবেশে মেয়েশিশুরা ১১ থেকে ১৩ বছরে এবং ছেলেশিশুরা ১৩ থেকে ১৫ বছরে সাবালক হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালেগ ছেলেমেয়েদের ওপর হজসহ শরিয়তে কোনো বিধান ফরজ নয়। তবে কোনো নাবালেগ ছেলেমেয়ে হজসহ যেকোনো ইবাদত করলে তার জন্য তা নফল হজ বা ইবাদত হিসেবে আদায় হবে। হজ আদায়কালে ছেলেশিশুদের পুরুষদের মতো ইহরাম পরতে হবে। কন্যাশিশুরা নারীদের মতো স্বাভাবিক পোশাকেই ইহরামের নিয়ত করবে। শিশু নিয়ত তালবিয়া ইত্যাদি বলতে না পারলে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে আদায় করবেন। আর যদি শিশু নিজে হজের কার্যাদি পালনে সক্ষম হয়, তাহলে সে নিজেই তা করবে। ছোট শিশু (নাবালেগ) ছেলেমেয়েরা ইহরাম অবস্থায় কোনো নিষিদ্ধ কাজ করলে তার কাফফারা দিতে হবে না। শিশুদের হজের কোনো ফরজ ছুটে গেলে বা বাদ পড়লে এই হজ কাজা করতে হবে না। শিশুকালে হজ করলে পরে বড় হওয়ার পর যদি হজ ফরজ হয়, তবে পুনরায় হজ আদায় করতে হবে।

শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য হজ ফরজ নয়। তবে কারও যদি এমন আর্থিক সংগতি ও সামর্থ্য থাকে, যাতে কাউকে সহযোগিতার জন্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি ইচ্ছা করলে হজ আদায় করতে পারবেন। মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য হজ ফরজ নয়। তবে অভিভাবক ইচ্ছা করলে তাকে শিশুদের মতো হজ করাতে পারেন।

চেহারা ও আচরণের দিক থেকে পুরুষ হিজড়ারা পুরুষদের মতো এবং নারী হিজড়ারা নারীদের মতো হজব্রত পালন করবেন। হজ আদায়কালে ছেলে হিজড়াকে পুরুষদের মতো ইহরাম পরতে হবে এবং মেয়ে হিজড়ারা মহিলাদের মতো নারীসুলভ স্বাভাবিক পোশাকেই ইহরামের নিয়ত করবেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আর যে সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ বা নারী যদি সে বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুরা-৪০ মুমিন, আয়াত: ৪০)

 

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

smusmangonee@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close