তাজা খবর:
Home / আমাদের তথ্য প্রযুক্তি / ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন তো:ওয়ারেন্টি বিষয়ে দেশে শক্ত আইন থাকা দরকার?
ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন তো:ওয়ারেন্টি বিষয়ে দেশে শক্ত আইন থাকা দরকার?

ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন তো:ওয়ারেন্টি বিষয়ে দেশে শক্ত আইন থাকা দরকার?

তারিকুর রহমান খান:

ডেস্কটপ, ল্যাপটপ কম্পিউটার তো বটেই, যেকোনো প্রযুক্তি পণ্য কেনার আগে ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বাজারে প্রযুক্তিপণ্যের ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। আর বিক্রেতারা দিচ্ছেন ভিন্ন ব্যাখ্যা।

যেমন অভিযোগ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি ও এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে—এই প্রধান দুই কম্পিউটার বাজারে চলতি সপ্তাহে দুই দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কেনাকাটা দেখেছেন এই প্রতিবেদক। বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে কথা হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে।

বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে ল্যাপটপের বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ছাত্রী ফারহানা আক্তার। তিনি  বললেন, ‘এক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে ১১ মাস আগে একটি ল্যাপটপ কিনেছিলাম। কেনার পর বেশ ভালো চলছিল। দুই দিন আগে হঠাৎ করে সমস্যা দেখা দেয়। এখন বিক্রেতা বলছেন, সেবার মেয়াদ ফুরোবার এক মাস আগে বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া সম্ভব না।’

বিক্রেতাদের বয়ান

একটা সময় বিক্রির প্রতিযোগিতা ছিল, এখন কেউ বিক্রির জন্য প্রতিযোগিতা করে না। এখন সবাই ভালো সার্ভিস নিয়ে প্রতিযোগিতা করে।

প্রযুক্তিপণ্যের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্টার টেকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সহসভাপতি রাশেদ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার প্রথম শর্ত হলো ক্রেতাকে ভালো সার্ভিস দেওয়া। বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদ যদি এক দিনও বাকি থাকে, তাহলেও আমরা সেবা দিয়ে থাকি। কোনো ক্রেতা যদি মনে করেন আমাদের লোক তার সঙ্গে অসহযোগিতা করছে, তবে তিনি লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন।’

বিসিএস কম্পিউটার সিটির সভাপতি মযহার ইমাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে দেখা হয়। যদি ক্রেতা মনে করে সেবা পাচ্ছে না। তাহলে ক্রেতা আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারবে। দ্রুত সেই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি।’

বিসিএসের একটা ওয়ারেন্টি নীতিমালা ছিল। সেটা আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে বলে জানালেন রাশেদ আলী ভূঁইয়া। এই নীতিমালায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা গাইডলাইন আছে। সেটার কপি বিসিএস জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ­­­কাছে দিয়েছি।

ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি ও রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি

ক্রেতাদের মধ্যে এগুলো নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণে অনেকেই ঠকে যান। পণ্য বিক্রির সময় বিক্রেতা জানান একরকম আর ক্রেতারা বুঝে নেন আরেক রকম। ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি ও রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি কোনটি কী তা জানালেন রায়ানস কম্পিউটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হাসান। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিপণ্যে কোনো গ্যারান্টি নেই। অন্য কোথাও থাকলেও বাংলাদেশে এটি প্রচলিত না। আর ওয়ারেন্টি হলো ক্রেতা যে পণ্য কিনছেন, সেটি নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত সাবলীলভাবে চলার নিশ্চয়তা। এই নির্দিষ্ট মেয়াদকে বলা হয় ওয়ারেন্টি।’ রিপ্লেসমেন্টের সঙ্গে ওয়ারেন্টির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যদি কোনো বিক্রেতা পণ্য বিক্রির সময় বলে থাকেন, পণ্যটিতে কোনো সমস্যা হলে রিপ্লেস বা বদল করে দেওয়া হবে। তবে বিক্রেতা তা দিতে বাধ্য।

বিক্রয়োত্তর সেবার নীতি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যই একই। জানালেন ডেল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আতিকুর রহমান। তিনি যোগ করেন, ডেল ল্যাপটপ আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টির আওতায় পড়ে। একজন গ্রাহক যদি বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য কেনেন, তাহলে তিনি যেকোনো দেশ থেকে ওই পণ্যের ওয়ারেন্টি দাবি করতে পারবেন।

এ বিষয়ে আহমেদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে থাকে। ওয়ারেন্টি মানে কিন্তু ম্যানুফ্যাকচারের (উৎপাদক) ওয়ারেন্টি।

ওয়ারেন্টি ক্রেতার অধিকার

পণ্যগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানের যে পরিমাণ টাকা খরচ হতে পারে, সেটা হিসাব করেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে বেশির ভাগ প্রযুক্তি পণ্যে এক থেকে দুই বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। করপোরেট গ্রাহকদের জন্য ওয়ারেন্টি নির্ভর করে গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তার ওপর।

কত দিনে সমাধান

ওয়ারেন্টি মেয়াদে থাকা কোনো পণ্যই খুচরা বিক্রেতারা ঠিক করে দেন না। এটি উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান করে দেয়। পণ্য পাঠানো হয় ম্যানুফ্যাকচারের কাছে। কত দিনে সেটা ঠিক হবে, সেটা তারা বলে দেয়। আঘাতের কারণে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পুড়ে গেলে সেবা দেওয়া হয় না।

বিক্রয়োত্তর সেবার আইন

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে ওয়ারেন্টি বিষয়টা খুবই অস্পষ্ট। সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও নেই। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী নাঈম মোল্লা জানান, ‘ওয়ারেন্টি বিষয়ে দেশে শক্ত আইন থাকা দরকার। বিশ্বের সব প্রায় সব দেশেই ওয়ারেন্টি আইন আছে। সেটি কঠোরভাবে মানা হয়। আমাদের দেশেও এটি নিয়ে আইনগত একটি নীতিমালা দরকার। আইন না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close