তাজা খবর:
Home / silde / বাংলাদেশ কি মিয়ানমারের ফাদেঁ পা দিবে? হামলার সঠিক জবাব কী হতে পারে?
বাংলাদেশ কি মিয়ানমারের ফাদেঁ পা দিবে? হামলার সঠিক জবাব কী হতে পারে?

বাংলাদেশ কি মিয়ানমারের ফাদেঁ পা দিবে? হামলার সঠিক জবাব কী হতে পারে?

আমাদের সম্পাদকীয়:

অদ্য শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মিয়ানমার বাংলাদেশের ভূখন্ড নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হামলা চালায়,এতে একজন রোহিঙ্গা কিশোর নিহত হয় ও কয়েকজন রোহিঙ্গা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ নিয়ে চারবার  সতর্ক করার পরও বাংলাদেশের ভুখন্ডে হামলা্ চালিয়েছে মিয়ানমার।

শেষ হামলাটি এমন সময় করেছে যখন বাংলাদেশের সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছে।একই সময়ে ২৪ টি দেশের সেনাপ্রধান ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশে একটি সমঝোতা সম্মেলন করছে। আবার মিয়ানমারের জান্তা সরকার চিন,রাখাইন ও শান অঞ্চল গুলোতে ক্ষতিগ্রস্থদের জাতিসংঘের দেয়া মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশের জনগণের আস্থাভাজন হতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বন্দুকের নল,ট্যাংকের কামান ও বিমানের মিসাইল তাক করে বসে। চীন ও রাশিয়ার মদদ পুষ্ট এই জান্তা সরকার খুব একটা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার এবং বৈদেশিক সম্পর্কে নিয়ে তোয়াক্কা করেনা। সম্প্রতি জান্তা সরকার প্রধান রাশিয়া থেকে ঘুরে এসেছেন। এদিকে চীন ও রাশিয়ার গোপন গোপন সব বৈঠক দিনরাত লেগেই আছে। চীন আবার তেল সমৃদ্ধ কিছু দেশকে একত্র করছে তাদের সমর্থনে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের রানীর শেষর্কৃত্যের আমন্ত্রণ করা হয়নি রাশিয়া ও মিয়ানমারের উভয় রাষ্ট্রপ্রধানকে। উভয়েই অপমানিত ও  মানসিক ভাবে ভারাগ্রস্থ তা খুব সহজেই অনুমেয়।

বারবার সতর্ক করার পর মিয়ানমার নিশ্চয়তা দেয় যে বাংলাদেশের সীমান্তে ভুলেও  আরাকান আর্মি বিরোধী সংঘর্ষে কোন গোলা আসবেনা। কিন্তু কই কথা রাখলো? আজ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হামলা চালায়,এতে একজন রোহিঙ্গা কিশোর নিহত হয় ও কয়েকজন রোহিঙ্গা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। বাংলাদেশ ইচ্ছে করলে সার্বভৌমত্বে আঘাত আসার কারণ দেখিয়ে সেনা অভিযান চালাতে পারে।

কিন্তু তাতে একটি সমস্যা আছে। মিয়ানমার অনেকদিন ধরে চাচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশী নাগরিক বলে তাদের গণহত্যা ও চলমান গৃহযুদ্ধের ভিন্নধারায় নিয়ে যেতে। বাংলাদেশ যদি মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরু করে তবে তা পুরোপুরি তাদেরি পরিকল্পনা সফল হবে এবং অর্থনৈতিক ভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।আবার জাতিসংঘের এই অধিবেশনে রাশিয়ার ইউক্রেনে চালানো আগ্রাসন-গণহত্যার নিন্দা থেকে বাঁচতে ও পুরো অধিবেশনের দৃষ্টি ভিন্নখাতে গড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও চীন বাংলাদেশে তাদের ঋণফোঁদে ফাঁসাতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশের উপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও আমি মনে করি।

আমাদের এই মুহূর্তে খুবই সাবধানে কদম ফেলা উচিত।মনে রাখতে হবে যে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই মহান শিক্ষা, ‘সবার সাথে মিত্রতা, কারো সাথে নয় শত্রুতা ।’   ফিদেল কাস্ত্রোর সেই ব্যক্তিত্ব ও সাহসে হিমালয়ের সমান এই মানুষটি পররাষ্ট্রনীতিতে যেটি নীতি করেছেন তা শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র পৃথিবীর জন্যই। আমরা কারো সাথে সরাসরি শত্রুতায় না যেয়ে এটিকে বৈশ্বিক সমস্যা বানিয়ে দিতে পারি এবং তাদের মাধ্যমে সমাধানে পদক্ষেপ নিতে পারি।

প্রথম পদক্ষেপ হবে এখনি জাতিসংঘের মহাসচিবে নিকট নালিশ জানানো এবং মিয়ানমারে অতিসত্ত্বর শান্তিরক্ষী নিয়োগ  দিতে বলা। সাথে জাতিসংঘ ও ভারতের মাধ্যমে মিয়ানমার রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে আলোচনায় বসা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে সরাসরি চীন ও রাশিয়াকে মিয়ানমারে শান্তিরক্ষা ও গৃহযুদ্ধ বন্ধ করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া। আর রোহিঙ্গাসহ ভারত,থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রিত মিয়ানমারের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া  এবং তাদের শান্তিরক্ষীর মাধ্যমে  নিরাপত্তার নিশ্চিত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করা।

  • নজরুল ইসলাম মজুমদার, সহযোগী সম্পাদক, আমাদের সংবাদ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close